মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় তেলের দামই ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৯৩ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৯৪.০৫ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআই ৩.৩৬ ডলার বা ৩.৯ শতাংশ বেড়ে ৯০.৭২ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এবং লেবাননে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
তবে এই সাম্প্রতিক উত্থান পুরো চিত্রের একটি অংশ মাত্র। কারণ মে মাসজুড়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। মাস শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে।
এই পতনের মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির আশাবাদ। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমলে তেল সরবরাহ স্থিতিশীল হবে এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ আসতে পারে। পাশাপাশি চীনের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যও চাহিদা কমার শঙ্কা তৈরি করেছিল।
চীনের উৎপাদন খাতে গতি কমে যাওয়ায় জ্বালানির ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সম্ভাব্য মূল্যছাড় নিয়েও বাজারে চাপ ছিল, যা এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দাম আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।
এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত। ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ও মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন তেল বাজারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য প্রায় ৯০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৮৩ ডলারের আশেপাশে থাকতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছে, নতুন করে সরবরাহ বিঘ্ন ঘটলে দাম আরও অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দ্বৈত চাপে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক