কে এই মোজতবা খামেনি, যিনি হতে পারেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কে এই মোজতবা খামেনি, যিনি হতে পারেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
কে এই মোজতবা খামেনি, যিনি হতে পারেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা? ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি যে নামটি সামনে এসেছে, তিনি হলেন মোজতবা খামেনি।

মোজতবা খামেনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি কখনো সরাসরি কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি কিংবা নির্বাচনে অংশ নেননি।

ক্ষমতার ভেতরের প্রভাবশালী ব্যক্তি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও গত দুই দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছেন মোজতবা খামেনি। বিশেষ করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ১৯৮০-এর দশকে তিনি আইআরজিসির হাবিব ব্যাটালিয়নে কাজ করেছিলেন এবং বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। সেই সময়কার অনেক সহযোদ্ধা পরবর্তীতে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার শীর্ষ পদে উঠে যান।

বিতর্ক ও অভিযোগ

মোজতবা খামেনিকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। ইরানের সরকারবিরোধী অনেক সংগঠন ও মানবাধিকার গোষ্ঠী অভিযোগ করে আসছে যে, ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর শুরু হওয়া ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ আন্দোলন দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

তখন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই আন্দোলন দমনে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজকে ব্যবহার করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে।

ধর্মীয় পরিচয়

মোজতবা খামেনি একজন ধর্মীয় নেতা হলেও তিনি ‘হুজ্জাত-উল ইসলাম’ পর্যায়ের আলেম—যা আয়াতুল্লাহর নিচের স্তরের ধর্মীয় মর্যাদা। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, প্রয়োজন হলে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো তাকে সর্বোচ্চ নেতা করার জন্য সাংবিধানিক ব্যাখ্যা বা সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, তাঁর বাবা আলী খামেনিও ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার সময় আয়াতুল্লাহ ছিলেন না।

উত্তরসূরি হওয়ার আলোচনায় কেন

কয়েক বছর ধরেই ইরানের রাজনৈতিক মহলে আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম আলোচিত হয়ে আসছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং নিরাপত্তা কাঠামোর সমর্থন থাকার কারণে তিনি অনেকের কাছে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন।

তবে তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা করা হলে ইরানে কার্যত এক ধরনের রাজনৈতিক ‘পারিবারিক উত্তরাধিকার’ তৈরি হবে—যা অনেকের মতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কীভাবে নির্বাচিত হয় সর্বোচ্চ নেতা

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নামে একটি পর্ষদ। ৮৮ জন শিয়া ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে গঠিত এই পর্ষদের সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তাদের দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন, তদারকি এবং প্রয়োজনে অপসারণ করা।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রায় অর্ধশত বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার—১৯৮৯ সালে—নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়েছিল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানি নৌজাহাজ ডুবেছে

শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানি নৌজাহাজ ডুবেছে