ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যে কোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই শুল্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত সব ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত।
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় নির্ধারণে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ‘খুব শক্তিশালী বিকল্প’ রয়েছে। প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপও বিবেচনায় আছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরান বিষয়ে কোন পথে এগোনো হবে, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নেবেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পিছপা হন না। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ট্রাম্পকে ‘অহংকারী স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইতিহাসে ফেরাউন ও নিমরোদের মতো শাসকদের যে পরিণতি হয়েছে, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেও সেই একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক