ঢাকার বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও গুলশান এলাকায় অবস্থিত সরকারি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টগুলো কেবল মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য সংরক্ষণ করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। মূলত মন্ত্রীদের আবাসনের উদ্দেশ্যে এসব ভবন নির্মিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, বিচারপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদধারীরা বসবাস করতে শুরু করেন। ফলে এলাকাগুলোর ‘মন্ত্রিপাড়া’ পরিচয় কার্যত পরিবর্তিত হয়ে যায়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করে মন্ত্রিপাড়ার মূল ধারণায় ফিরে যেতে উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব এলাকায় অবস্থিত সরকারি বাসভবন ভবিষ্যতে শুধুমাত্র মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে। তালিকায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত মোট ৭১টি সরকারি বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো মন্ত্রীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহার উপযোগী বলে বিবেচিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেইলি রোড ও মিন্টো রোড এলাকায় অবস্থিত বেশির ভাগ বাংলো স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মন্ত্রীদের থাকার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক প্রয়োজন ও আবাসন সংকটের কারণে এসব ভবনে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে একদিকে মন্ত্রিপাড়ার পরিকল্পিত কাঠামো ভেঙে পড়ে, অন্যদিকে মন্ত্রীদের জন্য আলাদা আবাসন সংকটও তৈরি হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন এলাকা থাকা প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। সে কারণেই মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসভবনগুলো পুনরায় শুধু মন্ত্রীদের ব্যবহারের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেখানে বর্তমানে বসবাসরত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ৭১টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান অবস্থা, অবস্থান ও ব্যবহার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
কসমিক ডেস্ক