গাজীপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আবদুর রহিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহতের বড় ভাই আল আমিন (২৩) এবং তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আল আমিন গাজীপুর সদর উপজেলার ডগরী নয়াপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম কোহিনূরের ছেলে। তার বন্ধু আশিক আহমেদও একই গ্রামের কাজী নজরুল ইসলামের সন্তান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানার পুলিশ গজারি বন থেকে রহিমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আল আমিনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন স্বীকার করেছেন, ছোট ভাই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তিনি।
মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আল আমিন বলেন, ছোট ভাই রহিম বাবার কাছে স্মার্টফোন কেনার বায়না করলে চেঁচামেচি করেছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বন্ধু আশিকের সঙ্গে রহিমকে গত ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে গজারি বনে নিয়ে যান। সেখানে মাফলার দিয়ে রহিমকে গজারি গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্ক্রচটেপ লাগিয়ে চড়-থাপ্পড় দেন। কিছুক্ষণ পর স্ক্রচটেপ খুলে দিলে রহিম হুমকি দেয়, পুরো ঘটনা বাবার কাছে জানাবে। ক্ষিপ্ত হয়ে আল আমিন ও আশিক তাকে গলাটিপে হত্যা করেন এবং পাশেই একটি গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেন।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পর আল আমিন রহিমের জ্যাকেট নিয়ে বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। হত্যার সময় আল আমিনের সঙ্গে দুই বন্ধু ছিলেন; একজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজনকে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রহিম এবং তার বড় ভাইয়ের মধ্যে ছোটখাট বিরোধ প্রায়ই হত। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রকাশ হয়েছে পরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে রোষ এবং আত্মরক্ষা নিয়ে সংঘর্ষ।
পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, “আমরা তদন্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপর একজনকে ধরতে তৎপর। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা আমাদের মূল লক্ষ্য।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পরিবার ও সমাজে সঙ্কটের ইঙ্গিত বহন করে। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার ও কমিউনিটির পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
পুলিশ বলছে, গাজীপুরে শিশু হত্যা ও পারিবারিক হিংসার বিষয়গুলো নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। পরিবার, স্কুল ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তদন্ত চলমান এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক