পুতিনকে খোলা চিঠি, সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পুতিনকে খোলা চিঠি, সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 5, 2026 ইং
পুতিনকে খোলা চিঠি, সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির ছবির ক্যাপশন:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং যুদ্ধের অবসানে দুই দেশের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি আলোচনার পুরো সময়জুড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকরেরও আহ্বান জানান।

তবে জেলেনস্কির এই প্রস্তাবের পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা চিঠিটি গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি পুতিনকে অবহিত করা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এমন একটি বৈঠক হলে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হতে পারে।

জেলেনস্কির চিঠিতে শুধু শান্তি আলোচনা নয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ইউরোপের যুদ্ধ আবারও ওয়াশিংটনের প্রধান মনোযোগে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করা সঠিক হবে না।

চিঠির ভাষায় দৃঢ়তার পাশাপাশি কিছু ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুতিনের নেতৃত্ব ও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার বিষয়েও কটাক্ষ করেন।

জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে লেখেন যে, ইউক্রেন সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি চায় এবং সে লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগত বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে এটি প্রথমবার নয়; এর আগেও তিনি একাধিকবার সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। তবে যুদ্ধ অবসানের জন্য রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কিছু শর্ত রয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে এজন্য উভয় পক্ষকে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

রাশিয়ার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল থেকে সরে যাওয়া এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করা। ইউক্রেন এসব শর্ত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

কিয়েভের মতে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসনের ঝুঁকি তৈরি হবে। ইউক্রেন মনে করিয়ে দেয়, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পরও পরিস্থিতি থামেনি; বরং ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির নতুন এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চিঠির শেষাংশে জেলেনস্কি যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন প্রতিনিয়ত মানুষ হারাচ্ছে এবং প্রতিটি প্রাণহানি দেশের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুত র‌্যা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুত র‌্যা