রাশিয়ার সীমান্তের কাছে উড়ন্ত অবস্থায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেইলি-কে বহনকারী একটি সামরিক বিমানে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)-এর ওই বিমানটি রাশিয়ার সীমান্তসংলগ্ন আকাশসীমার কাছে উড়ছিল। এ সময় হঠাৎ করে বিমানের জিপিএস ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে, যা একটি সম্ভাব্য সাইবার হামলার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। এস্তোনিয়া সফর শেষে ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশে ফেরার পথে এই বিঘ্নের মুখে পড়ে বিমানটি। সফরের সময় তিনি ন্যাটোর সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
সাইবার হামলার কারণে বিমানের জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ হয়ে গেলে পাইলটদের বিকল্প নেভিগেশন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই ফ্লাইটে আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরোনো বা ব্যাকআপ সিস্টেমের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
এ ঘটনার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রযুক্তিগত বিঘ্ন নতুন নয়।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস-কে বহনকারী একটি আরএএফ বিমানের জিপিএস সিগন্যাল রুশ সীমান্তের কাছে বিঘ্নিত হয়েছিল। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরের আকাশে একটি ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানকে রুশ যুদ্ধবিমান দ্বারা ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রে জন হেইলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিভিন্ন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে বিমানের অবস্থান দৃশ্যমান থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সাইবার আক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে। সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার জন্য জিপিএস জ্যামিং বা সিগন্যাল বিঘ্নিত করার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিমান চলাচল, নৌ চলাচল এবং সামরিক অপারেশনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সাইবার হামলা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক