ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের আকাশপথে যাতায়াত যখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন দেশটির সামাজিক সমতা বিষয়ক মন্ত্রী মে গোলান যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরানের সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিক কিংবা বিদেশি পর্যটকদের জন্য দেশ ত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মন্ত্রী মে গোলানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। ইসরায়েলি সাংবাদিক উরি মিসগাভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় গোলান বিমানের বিজনেস ক্লাসে বসে আছেন। এই ছবির মাধ্যমে তার যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলের আকাশপথ মূলত বন্ধ রয়েছে। ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে বলে জানা যায়। এই পরিস্থিতিতে আকাশপথে যাতায়াত নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি মিশরের সীমান্ত ব্যবহার করে দেশ ত্যাগের কথা বলেন, কারণ আকাশপথে যাতায়াত তখন প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
রোববার বেন গুরিওন বিমানবন্দর আংশিকভাবে চালু করা হয়। তবে সেখানে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র দুটি ছোট আকারের বিমান চলাচল করতে পারছে। এসব বিমানে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭০ থেকে ১০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
এই সীমিত ব্যবস্থার মধ্যেই মন্ত্রী মে গোলানের যুক্তরাষ্ট্র সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং পার্লামেন্ট সদস্য ভ্লাদিমির বেলিয়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছে। এমন অবস্থায় একজন মন্ত্রীর বড় দলবল নিয়ে বিদেশ সফরে যাওয়া অনেকের কাছে অস্বস্তিকর ও দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে।
বেলিয়াক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর দপ্তরের বাজেটও কাটছাঁট করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার জন্য এত বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষের জন্য বিমান টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন একজন মন্ত্রীর বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দেশের ভেতরে অবস্থান করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে কেউ কেউ মত দিয়েছেন। তবে এই সফরের সময় নির্বাচন এবং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের মধ্যেই মন্ত্রী মে গোলানের বিদেশ সফর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক