ইরানের দাবি: ইসরায়েলের হার্মিস ৯০০ ড্রোন অক্ষতভাবে জব্দ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানের দাবি: ইসরায়েলের হার্মিস ৯০০ ড্রোন অক্ষতভাবে জব্দ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 4, 2026 ইং
ইরানের দাবি: ইসরায়েলের হার্মিস ৯০০ ড্রোন অক্ষতভাবে জব্দ ছবির ক্যাপশন:

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের অত্যাধুনিক হার্মিস ৯০০ ড্রোনকে অক্ষত অবস্থায় জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ড্রোনটি হামলা চালানোর আগেই গুলি করে মাটিতে নামানো হয়।

আইআরজিসির সূত্রে জানা যায়, ড্রোনটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র অবস্থায় এবং অক্ষত রয়েছে। বর্তমানে এটি ইরানের বিমান বাহিনীর মহাকাশ ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের জন্য মহাকাশ বিশেষজ্ঞ এবং প্রকৌশলীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই অর্জনের মাধ্যমে ইরান তার প্রতিরক্ষা ও নজরদারি সক্ষমতাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহান, তাবরিজসহ বিভিন্ন প্রদেশে ছয়টি হার্মিস ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের শুরু থেকে মোট প্রায় ৩৫টি শত্রু ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে।

হার্মিস ৯০০ ড্রোন ইসরায়েলের অত্যাধুনিক নজরদারি ও হামলা অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে এবং উন্নত সেন্সর ও ক্যামেরা প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ড্রোনটিতে রয়েছে:

  • ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড ক্যামেরা: যা দিন-রাত নিরবিচ্ছিন্ন নজরদারি করতে সক্ষম।

  • সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার (SAR): মেঘ বা ধোঁয়ার মধ্যেও লক্ষ্য চিহ্নিত এবং ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম।

  • গ্রাউন্ড মুভিং টার্গেট ইন্ডিকেটর (GMTI): মাটিতে চলমান লক্ষ্য শনাক্তের সুবিধা।

  • ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম: শত্রুর যোগাযোগ ও রাডার তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ।

আইআরজিসির এক কর্মকর্তা জানান, এই ড্রোন জব্দের মাধ্যমে ইরান শত্রুদের প্রযুক্তি ও নজরদারি কৌশল বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ড্রোনের নির্মাণ, সেন্সর প্রযুক্তি ও সশস্ত্র ব্যবস্থা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরান তার বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি সিস্টেম আরও উন্নত করতে পারবে এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হার্মিস ৯০০ ড্রোনের এই জব্দ ইরানের জন্য কৌশলগত বিজয় হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি শুধু নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, ইসরায়েলের সামরিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

আইআরজিসির দাবি অনুসারে, ড্রোনটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় গবেষণা ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চালানো সম্ভব হবে। এতে ভবিষ্যতে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল ও সামরিক প্রস্তুতিতে সহায়ক তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সক্ষমতার প্রতি নতুন আলো ফেলেছে। ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

সবমিলিয়ে, হার্মিস ৯০০ ড্রোন জব্দ ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি ও প্রযুক্তি আধুনিকায়নে নতুন দিক নির্দেশ করবে এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পটভূমিতে কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স