অপেক্ষার প্রহর শেষে সারা দেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট নেওয়া শুরু হয়। রাজধানীর ঢাকা-১৩ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
ভোট দিতে আসা এক ভোটার জানান, দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। আরেকজন ভোটার বলেন, ভিড় এড়াতে সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। মোট আসন ২৯৯টি; একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
মোট প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৮১ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশীয় ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন এবং বিদেশি ৫৪০ জন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক অনুমোদন পেয়েছেন। সারা দেশে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৬৫৯টি এবং বুথ সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবার ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালট পেপার পাচ্ছেন। একটি সংসদীয় আসনের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধানের প্রস্তাবিত মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে মত দেওয়ার জন্য।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দিনের শেষ পর্যন্ত ভোটারদের অংশগ্রহণের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কসমিক ডেস্ক