কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি-র বার্ষিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সমিতির ইতিহাসে এই প্রথম আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—তিনটি পৃথক রাজনৈতিক প্যানেলের অংশগ্রহণে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ১৭টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৭ জন প্রার্থী। ফলাফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৭টি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ৬টি এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ৪টি পদে জয় পেয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। দুটি কেন্দ্রে—কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন এবং চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবনে—ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৯৪৮ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮৬১ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৭ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন। মোট ৮৯২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন; কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮০৬ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোট দেন।
সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট আমির হোসাইন। সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী দিয়ে ৪টি পদে জয় লাভ করে।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক ও অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট এস এম জসিম জয় পান। এই প্যানেল ১৭ জন প্রার্থী দিয়ে ৬টি পদে জয়ী হয়।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাহিদা খানম কক্সী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ জয়ী হন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া এবং অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্যানেল ১৪ জন প্রার্থী দিয়ে ৭টি পদে জয় নিশ্চিত করে।
নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহমদ কবির। সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম রেজাউল করিম, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন ও মোস্তাক আহমদ। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফরিদ আহমদ, নূর আহমদ, আবু ছিদ্দিক, তাপস রক্ষিত, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, এ কে ফিরোজ আহমদ ও মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ।
জানা গেছে, ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবারই প্রথম রমজান মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। গত বছরের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়ী হয়েছিল, জামায়াত সমর্থিত প্যানেল পেয়েছিল ৬টি পদ এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার ২ জন প্রার্থী জয় পান।
এবারের ফলাফলে তিন পক্ষের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের ৭টি পদে জয় অনেকের কাছে বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক