বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর এবং এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, “তুরস্কের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ব্রাদারলি সম্পর্ক আমাদের অনেক দিনের।”
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
তার মতে, সেই সময় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা রয়েছে।
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনের বাইরে কোনো ধরনের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না এবং প্রশাসনকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
একই সঙ্গে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেউ যদি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন আইন অনুযায়ী কাজ করলে সরকারের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সিলেটকে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তার মতে, সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন, সরকার তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম এবং সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক।
এছাড়া বিএনপি ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পরিকল্পনা ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
কসমিক ডেস্ক