ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ বাড়ছে, লাইসেন্স পেতে আবেদন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ বাড়ছে, লাইসেন্স পেতে আবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ বাড়ছে, লাইসেন্স পেতে আবেদন ছবির ক্যাপশন:
ad728

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। নগদ টাকা ছাপানো, মুদ্রা বিতরণ, সংরক্ষণ এবং পুরোনো নোট ধ্বংসের মতো পুরো প্রক্রিয়ায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই ব্যয় কমানো এবং আর্থিক লেনদেনকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনের উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আবেদন জমা দিয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি অংশীদারিত্বে গঠিত একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমনকি কিছু আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অন্য দেশে ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতাও আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করে। প্রথমে আবেদনের শেষ সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়। গতকাল রোববার ছিল আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত দিন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী, আবেদনকারী ১২টি প্রতিষ্ঠান হলো— ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকের অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠা উদ্যোগও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে শাখাহীন ব্যাংকিং সেবার বিস্তার ঘটবে। এতে নগদ লেনদেনের ঝুঁকি ও ব্যয় কমবে, আর্থিক সেবার আওতায় নতুন গ্রাহক যুক্ত হবে এবং রেমিট্যান্স পাঠানো থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার পেমেন্ট ব্যবস্থায় গতি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর আদায়, আর্থিক তদারকি এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধেও ডিজিটাল লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের ১৪ জুন ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা প্রণয়ন করে। নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা। এই ব্যাংকের কেবল একটি প্রধান কার্যালয় থাকবে, তবে কোনো শাখা, উপশাখা, এটিএম, সিডিএম, সিআরএম বা ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) সেবা থাকবে না। সব ব্যাংকিং সেবা ইন্টারনেট, অ্যাপ ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

ডিজিটাল ব্যাংকে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাবে। গ্রাহকদের জন্য ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড এবং উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য চালুর সুযোগ থাকবে। তবে কোনো প্লাস্টিক কার্ড ইস্যু করা যাবে না। পাশাপাশি এই ব্যাংক বড় ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বা ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে না; কেবল ছোট ঋণ প্রদানের অনুমতি থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগ, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এবং গ্রাহক আস্থা নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের নগদ অর্থনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক আর্থিক প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্যাংকখাত কেলেঙ্কারিতে নতুন নাম: এস এম মনিরুজ্জামান

ব্যাংকখাত কেলেঙ্কারিতে নতুন নাম: এস এম মনিরুজ্জামান