কেন বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও কমছে স্বর্ণের দাম? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কেন বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও কমছে স্বর্ণের দাম?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 14, 2026 ইং
কেন বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও কমছে স্বর্ণের দাম? ছবির ক্যাপশন:

সাধারণত বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে এবং এর দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সংঘাত চলমান থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমে যাচ্ছে।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু জুনের মাঝামাঝি সময়ে তা কমে প্রায় ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন কারণ তুলে ধরছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দামের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। আর সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।

এর কারণ হলো, স্বর্ণ এমন একটি সম্পদ যা থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে লাভ করতে হলে এর দাম বাড়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে, ব্যাংক বা বন্ডের মতো সুদভিত্তিক বিনিয়োগে নিয়মিত আয় পাওয়া যায়। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে এসব খাতে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী হন।

এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও মূল্যস্ফীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি জ্বালানি মূল্য বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ। একই সঙ্গে দেশটির শ্রমবাজারও বেশ স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার কমাবে—এমন সম্ভাবনা কমে গেছে। বরং অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বছরের শেষের দিকে সুদের হার আরও বাড়তে পারে।

স্বর্ণের দামের ওপর আরেকটি বড় প্রভাব ফেলছে মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য সাধারণত ডলারে নির্ধারিত হয়। ফলে ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম কমে যায় এবং ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম বাড়ে। বর্তমানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে ডলারের মান শক্তিশালী হচ্ছে এবং স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের শক্তি—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে স্বর্ণবাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও যুদ্ধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশের পর স্বর্ণের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হয়, তাহলে জ্বালানির দাম কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে। এতে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ প্রবণতার ওপর। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ