ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনাটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে—কারণে অকারণে নানা শর্ত ও অজুহাত তুলে ধরে একটি স্বার্থবিরোধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন জনগণের আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও সেই ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের সাহসী সন্তান ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনাও সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর মনে কয়েকটি প্রশ্ন এসেছে—বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হলে কারা খুশি হবে, নির্বাচন ছাড়াই এই সরকার বহাল থাকলে কারা লাভবান হবে এবং জনগণের ভোটে সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কাদের স্বার্থ রক্ষা পায়। তাঁর মতে, এসব প্রশ্নের উত্তরেই ঘাতকদের পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে; স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রুরা সেখানেই ঘাপটি মেরে আছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, পতিত ও পলাতক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের হীন ও দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে আসছে। অতীতের মতো এখনো একটি পরাজিত চক্র বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর জবাবে প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের ঘরে বিজয়ের সুফল পৌঁছে দিয়ে সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারই হোক এবারের বিজয় দিবসের প্রত্যয়।
তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র টেকসই হয় না। দেশের ইতিহাসে যতবার গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। এ কারণেই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য এবং দলটি সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে অবিচল।
তারেক রহমান বলেন, যারা স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে ভয় দেখাতে চায়, তারা ব্যর্থ হবেই। ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলন প্রমাণ করেছে—জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজয় অনিবার্য। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশা আল্লাহ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মিছিলে তিনি নিজেও থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আগামী দশকের রূপান্তরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নারী, তরুণ, কৃষক-শ্রমিকসহ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির লক্ষ্য।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
কসমিক ডেস্ক