জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের প্রার্থী মো. তৌহিদ হোসেনের পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী জুন মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইউএনজিএ সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সদ্য বিদায় নেওয়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী করেছিল। তবে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার নতুন প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থীতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে এবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে একজন নির্বাচিত হবেন। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, প্যালেস্টাইন এবং সাইপ্রাস প্রার্থীতা ঘোষণা করেছিল। তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে অন্য কোনো দেশ নতুন করে প্রার্থীতা ঘোষণা না করলে সাইপ্রাসের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (United Nations General Assembly) হলো জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান অঙ্গ, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন, যিনি অধিবেশন পরিচালনা, বৈশ্বিক আলোচনায় সমন্বয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশ এর আগে একবার ইউএনজিএ সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছে। পেশাদার কূটনীতিক হুমায়ন রশিদ চৌধুরী ১৯৮৬-১৯৮৭ মেয়াদে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএনজিএ সভাপতি পদে প্রার্থীতা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর স্বার্থ, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা এবং উন্নয়ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
ড. খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এ নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, প্রার্থী পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে জুনের নির্বাচনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচারণা ও সম্ভাব্য ফলাফলের দিকে।
কসমিক ডেস্ক