রাজধানীর আজিমপুরে এক মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং গোপনে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানিয়েছেন, স্বামীর হুমকির কারণে তিনি নিরাপদ স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। সোনিয়া আক্তার জানান, ২০২২ সালে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ রকি হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। কিন্তু বিবাহের কিছুদিনের মধ্যে স্বামীর আচরণে অস্থিরতা দেখা দেয়। স্বামী প্রায়ই আত্মগোপনে চলে যান এবং কখনও স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন, আবার কখনও অস্বীকার করেন।
সোনিয়ার দাবি, স্বামী দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের ছবি গোপনে ধারণ করেছেন এবং তা ফেসবুকে প্রকাশের হুমকি দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, আর কিছু ছবি প্রকাশ করার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। স্বামী তার হুমকির মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে সোনিয়া আক্তার জানিয়েছেন, স্বামীর হুমকি ও বৈষম্যের কারণে তার জীবন বিপন্ন। তিনি পুলিশের আইজি এবং ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন যেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং তার স্বামীকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোনিয়া আরও জানান, তার স্বামীর আচরণ সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্যে ফেলেছে। নিরাপত্তা না পেলে তিনি এবং তার পরিবার যে কোনো সময় বিপদের মুখে পড়তে পারেন। তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ করবে এবং তাকে সুরক্ষা দেবে।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ইতোমধ্যেই সতর্ক রয়েছে। তারা স্বামীর অবৈধ আচরণ ও সামাজিক মাধ্যমে হুমকি প্রচারের বিষয়টি নজরে রাখার কথা জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র মতে, দেশে দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও হুমকির ঘটনা সম্প্রতি বাড়ছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতারণা ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা নারীদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
সোনিয়ার মতো ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনগত সহায়তা চাচ্ছেন, যাতে নিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন এবং হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেতে পারেন।
এই ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত দাম্পত্য ঝামেলা নয়, বরং সামাজিক ও আইনি দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস ও অর্থ দাবি করা বৈষম্যমূলক অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সোনিয়া আক্তারের আবেদন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং তার স্বামীকে দায়িত্বহীন আচরণের জন্য আইনি পথে দণ্ডিত করা হয়।