বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ও তার স্বামী পিটার হগের বিচ্ছেদ মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলমান এই মামলার মধ্যেই সেলিনার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে দুটি পৃথক আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাইভিত্তিক আইন সংস্থা ‘সেমওয়াল অ্যান্ড কোম্পানি’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন পিটার হগের বাবা এবং অন্যটি পাঠিয়েছেন স্বয়ং পিটার হগ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেলিনা বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা তাদের পারিবারিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। এসব মন্তব্যকে মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও চাঞ্চল্যকর বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এতদিন বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও সেলিনা প্রকাশ্যে অভিযোগ করে যাচ্ছেন, যার কারণে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে পিটার হগ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সেলিনার সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গার্হস্থ্য সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, হয়রানি, সন্তানদের থেকে দূরে রাখা এবং ধর্মীয় বা উগ্রপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগ।
তাদের দাবি, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং পরিবারের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করছে। বিশেষ করে সন্তানদের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এটি প্রকাশ্যে না এনে ব্যক্তিগতভাবে সমাধান করা উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে সেলিনা জেটলি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করে গত বছর পিটার হগের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্কও সীমিত করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে এই উচ্চপ্রোফাইল বিচ্ছেদ মামলার পরবর্তী গতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক