পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে রনি মৃধা, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘কসাই রনি’ নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার থানা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া রনি মৃধা (৩০) উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং নুর হোসেন মৃধার ছেলে। তিনি দুমকি থানায় দায়ের করা ছিনতাই মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন ইনচার্জ মাঠপর্যায়ের এক কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। বেলা ১১টার দিকে তারা রাজাখালী ফার্মগেটের পূর্ব পাশে পৌঁছালে চারজন দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে।
এরপর ছিনতাইকারীরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের মারধর করে তাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ঘটনার পর গত ২০ মে দুমকি থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নম্বর-৮। তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশি নথি অনুযায়ী, রনি মৃধার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী ও দুমকি থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় দস্যুতার প্রস্তুতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
দুমকি থানায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির মোট দশটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া কিছুদিন আগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায়ও তিনি একজন আসামি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘কসাই রনি’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেয়ে আসছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার রনি মৃধাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, মামলার পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক