ঢাকায় চীনা দূতাবাসের আমন্ত্রণে ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ২০ সদস্যের তরুণ প্রতিনিধিদল। এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত ১৪ মে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে এই আমন্ত্রণ জানান। প্রস্তাবিত সফরটি আগামী ৪ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি চীনের চংকিং ও সাংহাই শহর সফর করবে। সেখানে তারা দেশটির উন্নয়ন কার্যক্রম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), নগর পরিকল্পনা, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
সফরকালে দলটি চংকিং জেনারেল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সাংহাই এআই ল্যাব, টংজি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (এসআইআইএস) পরিদর্শন করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সফরকে কেন্দ্র করে তরুণ নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছেন অংশগ্রহণকারীরা।
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণদের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই বাস্তবতায় বিএনপি তরুণদের রাজনৈতিক ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই সফরের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষ তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে।
তৌফিক জানান, চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তিনি নিজ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নেও কাজে লাগাতে চান।
এই সফরদলে বিএনপির ২০ জন তরুণ প্রতিনিধি রয়েছেন, যার মধ্যে যুবদলের ৬ জন, ছাত্রদলের ৬ জন, এবং ৮ জন নারী ও পুরুষ সদস্য অন্তর্ভুক্ত আছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সফর রাজনৈতিক দলগুলোর তরুণ নেতৃত্বকে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার একটি সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে এই সফর বিএনপির তরুণ নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক