আন্তর্জাতিক সাফল্যের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খেলায় বাড়তি নজর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আন্তর্জাতিক সাফল্যের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খেলায় বাড়তি নজর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
আন্তর্জাতিক সাফল্যের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খেলায় বাড়তি নজর ছবির ক্যাপশন:

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কর্মপরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন আমিনুল হক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম— এমন সম্ভাবনাময় খেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের বিবেচনায় আর্চারি, শ্যুটিং ও হকির নাম উঠে আসে। অতীত পারফরম্যান্স ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে এসব খেলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব উঠে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় গেমস ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে পদক সম্ভাবনা বিবেচনায় খেলা নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

তবে নির্দিষ্ট কিছু খেলায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার ধারণা নতুন নয়। অতীতেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন উদ্যোগের কথা শোনা গেছে, এমনকি বিশেষায়িত ক্যাম্পও পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তা স্থায়ী রূপ পায়নি। নতুন দায়িত্বে আমিনুল হক এ উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা বিস্তারের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবল প্রচলিত থাকলেও আরও তিনটি খেলা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরঞ্জামের সহজলভ্যতা বিবেচনায় অ্যাথলেটিকস ও মার্শাল আর্টের কথা আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি দাবাও অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব উঠেছে।

আমিনুল হক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই খেলাগুলো চূড়ান্ত করে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্কুলে পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করা হলে সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেখানে সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমান খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের দাবি— সরকার বা ফেডারেশনের আওতায় নিয়মিত বেতন কাঠামো চালু করা— সেটিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এজন্য ফেডারেশনগুলোকেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে বড় প্রকল্পের বদলে সহজলভ্য খালি জায়গায় মানসম্মত মাঠ তৈরির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। স্কুলের মাঠগুলো স্থানীয় শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায় থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় করার বিষয়েও সাংবাদিকদের মতামত চান আমিনুল হক। বরাদ্দ বৃদ্ধি, নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তন এবং ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রস্তাব উঠে এসেছে আলোচনায়। ক্রিকেট ও ফুটবলের জন্য পৃথক মাঠের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ক্রীড়া পরিচালক পদে সাবেক কৃতী খেলোয়াড়দের নিয়োগের প্রস্তাব উঠে এসেছে, যাতে ক্রীড়া প্রশাসনে মাঠের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।

সব মিলিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ক্রীড়া উন্নয়নে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এখন অপেক্ষা— এসব পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং সম্ভাবনাময় খেলাগুলো কতটা নতুন গতি পায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এআই যুগে কর্মসংস্থান: সুযোগ নাকি ভয়াবহ সংকট

এআই যুগে কর্মসংস্থান: সুযোগ নাকি ভয়াবহ সংকট