গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রামের আয়োজনে রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে পৌর টাউন হলে জেলার নয়টি উপজেলা থেকে আগত প্রায় সহস্রাধিক ইমাম, পেশ ইমাম ও খতিবদের নিয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি পিপিএম, কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ ইনজামামুল আলম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট এস.এম. সাখাওয়াৎ হোসাইন। এছাড়াও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শাহজাহান আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, গণভোট একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণের মতামত সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হয়। এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের প্রতিটি নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, গণভোটে অংশগ্রহণ মানে শুধু একটি ভোট দেওয়া নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নেওয়া। তরুণ প্রজন্ম, নারী ভোটার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কুড়িগ্রামের ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক রয়েছেন নারী ভোটার। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা দরকার।
ইমাম খতিবগণের কাছে সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সমাজে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম ও খতিবগণ মানুষের কাছে নৈতিকতার বার্তা পৌঁছে দেন। আপনাদের মাধ্যমে আমরা গণভোটের গুরুত্ব, সঠিক তথ্য এবং দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে চাই। আপনারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে ভোটার উপস্থিতি যেমন বাড়বে, তেমনি একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।