বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পৌর জামায়াতে ইসলামির বাইতুলমাল সম্পাদক এটিএম মুজাহিদ এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামির যুব বিভাগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, তারা দুজনই চলমান একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পারশন গ্রামে নির্বাচনী সহিংসতার একটি ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং এতে তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর আহত মাসুদ রানা মজিদ বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী পরিবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে ১০ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং মামলার অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনী সহিংসতার মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কসমিক ডেস্ক