যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এখনই চূড়ান্তভাবে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
আলজাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে চীন এই চুক্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো অস্পষ্ট রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য বিদ্যমান। ফলে এটিকে এখনই স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সম্পূর্ণ করতে আরও অন্তত ৬০ দিন সময় লাগতে পারে।
চীনের দৃষ্টিতে এটি একটি সম্ভাবনাময় কূটনৈতিক অগ্রগতি হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিবহন বিষয়টি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বেইজিং সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
চীন স্পষ্ট করেছে, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান বা জ্বালানি নিরাপত্তা নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ১৪ জুন একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। এতে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়। এই চুক্তিকে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কসমিক ডেস্ক