নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩০ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের পেরীর মোড় এলাকায় কেন্দুয়া-আঠারবাড়িগামী সড়কে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সন্দেহজনক একটি সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় অটোরিকশার পেছনে ইঞ্জিনের পাশে কৌশলে লুকানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটক চারজন হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চানপুর গ্রামের মো. কবির (৩৪), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার সোয়াবই গ্রামের মো. সোহাগ মিয়া (২৮), ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ইসুলিয়া গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৪০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার গিলামোড়া গ্রামের মো. মনিরুল ইসলাম (২২)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়ে নজরদারি শুরু করেন।
পরে সন্দেহজনক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে অটোরিকশার পেছনের অংশে ইঞ্জিনের পাশে লুকানো অবস্থায় ৩০ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়।
এরপর ঘটনাস্থল থেকেই অটোরিকশায় থাকা চারজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা।
তাদের ধারণা, এই গাঁজা অন্য কোনো এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে তদন্তের মাধ্যমে এর পেছনে আর কোনো চক্র জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিহির রঞ্জন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক পরিবহন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক