শেরপুরের ঝিনাইগাতী, শেরপুর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিনাইগাতী সিআর আমলি আদালতে ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচুড়া গ্রামের আমজাদ ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত বাদী হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর জামায়াতের নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, তাদের নেতা হত্যার বিচার হয়নি, উল্টা নির্বাচনী চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা বলেন, জামায়াত নেতাদের হামলায় আহত পরিবারই মামলা দায়ের করেছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, দুটি মামলায় মোট ২৪৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম তাতীহাটি এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে, উপজেলা জামায়াতের আমির আজহারুল ইসলাম মিস্টার (৫০), দুটি মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছে।
একই ঘটনায়, বিএনপি কর্মীদের হামলায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হন। তার স্ত্রী মারজিয়া বেগম বাদী হয়ে সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৩১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করেন এবং ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। তবে ইতিমধ্যে সাবেক এমপি সহ অধিকাংশ নেতাকর্মী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, গত ২৮ জানুয়ারি উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতাদের হামলায় শতাধিক বিএনপি কর্মী আহত হন। ওই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের কর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সেই হত্যার বিচার পাইনি, উল্টা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। মূলত কাউন্টার মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করব।”
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁঞা জানান, আদালত থেকে ঝিনাইগাতী থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ৪ ফেব্রুয়ারি মারা যাওয়ায় এই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
এ ঘটনার পর শেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মামলার মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, এবং জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা কমাতে স্থানীয় প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।