সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সিলেটের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ৫ থেকে ১০টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্র খোলার আগেই ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও আগ্রহ।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারছেন।
নগরীর পিটিআই স্কুল ভোটকেন্দ্রে মাহাজাবিন নামের এক তরুণী ভোট দেওয়ার পর বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো ভোট দিলাম। ভোট দিতে এসে খুব ভালো লাগছে। নিজের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। তার মতো অনেক নতুন ভোটারকেই প্রথম ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে।
এদিকে নগরীর আম্বরখানা গার্লস হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়া শেষে পুরুষ ভোটার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি মাত্র ভোট দিয়ে বের হয়েছি। কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি। সবকিছু খুব সুন্দরভাবে হয়েছে, এখন বাসায় চলে যাচ্ছি।
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ভোট উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কেউ যদি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সিলেটের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা উৎসাহ তৈরি হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।