নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার অসুস্থ বাবাকে দেখতে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। সোমবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন হান্নান মোল্লার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে হান্নান মোল্লাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগজনিত জটিলতার আশঙ্কায় তাকে বর্তমানে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে অধ্যাপক ডা. তৌফিক রহমান ফারুকির তত্ত্বাবধানে।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি রোগীর সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি হান্নান মোল্লার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে হান্নান মোল্লার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে ডা. বিটুর সঙ্গে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একাধিক চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার হোসেন, ডা. জহিরুল ইসলাম জহির, ডা. রাশেদুল হাসান রিপন, ডা. শাহ মো. সামিউর রহমান, ডা. মাহমুদ আলী বাবু এবং ডা. মো. হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।
এই ঘটনা ঘিরে হাসপাতাল এলাকায় একটি মানবিক পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা রোগীর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন।
সব মিলিয়ে, হাসপাতালে গিয়ে রোগীর খোঁজ নেওয়া এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ—এই ঘটনাটি চিকিৎসা সেবায় মানবিক দায়িত্ববোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক