বাজেটে রডের দাম বাড়ল, নির্মাণ খাতে নতুন চাপ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাজেটে রডের দাম বাড়ল, নির্মাণ খাতে নতুন চাপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 11, 2026 ইং
বাজেটে রডের দাম বাড়ল, নির্মাণ খাতে নতুন চাপ ছবির ক্যাপশন: নতুন অর্থবছরে রডের দাম বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ খাতে ব্যয় বাড়ছে

২০২৬–২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নির্মাণসামগ্রীর বাজারে রডের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি নির্মাণ খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, টনপ্রতি রডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৭৫-গ্রেড ও ৬০-গ্রেড রডের দাম আগের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ছোট-বড় সব ধরনের নির্মাণ প্রকল্পের খরচে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক বাজারে স্টিল স্ক্র্যাপের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং ডলারের বিনিময় হারের চাপ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শিপিং খরচও বেড়েছে, যা আমদানি ব্যয়কে আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে রড উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বৈশ্বিক বাজারে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত দেশীয় বাজারে পড়ে। বিশেষ করে স্ক্র্যাপ স্টিলের দাম বাড়লে সরাসরি রডের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়।

বাজারে বড় ব্র্যান্ডগুলোর রডের দামও সমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএসআরএম, কেএসআরএম, জিপিএইচ এবং একেএসসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলোর দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে মাঝারি মানের ব্র্যান্ডগুলোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

অন্যদিকে নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা কম থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে চালু হওয়ায় বাজারে চাহিদা বাড়ছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতাও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রডের এই দাম বৃদ্ধি আবাসন খাত, সেতু নির্মাণ, সড়ক উন্নয়নসহ সব ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করবে। এতে করে উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সূচি ও বাজেট উভয়ই চাপে পড়তে পারে।

তবে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় লোকসানে বিক্রির পর এখন বাজার কিছুটা সমন্বয়ের দিকে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় না থাকায় অনেক কোম্পানি আগের সময়গুলোতে চাপের মধ্যে ছিল।

সব মিলিয়ে, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রডের দাম বৃদ্ধি দেশের নির্মাণ খাতকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় চাহিদা—এই তিনটি কারণ মিলেই বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
হরমুজের পর নতুন হুমকি, বাব আল-মান্দেবে নজর ইরানের

হরমুজের পর নতুন হুমকি, বাব আল-মান্দেবে নজর ইরানের