সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে।
তবে নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না হয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন বা বেসিকের প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেসিক বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা গত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় আছেন। এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বাজেট বক্তব্যে। সেই বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামোকে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোর আওতায় শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বৈশাখী ভাতা বর্তমান বেসিকের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্যও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশনভোগীদের পেনশন দ্বিগুণ করা হতে পারে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে একটি সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। নতুন পে স্কেল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
সব মিলিয়ে নতুন বেতন কাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
কসমিক ডেস্ক