রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কমিশনারের নির্দেশে তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কোতোয়ালি থানার ভেতরে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিব দাবি করেছেন, থানার ভেতরে তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তার ওপর লাঠি ও বন্দুক দিয়ে আঘাত করে, এতে তার মাথায় ও শরীরে আঘাত লাগে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে সিও বাজার এলাকায় নিখোঁজ এক প্রেমিক যুগলকে উদ্ধারের পর তাদের থানায় আনা হয়। পরে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। ওই সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। সেখানেই এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি থানায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানালে পুলিশ সদস্যরা তার ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রংপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, পুলিশের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের পরিবারের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে আনে। তার দাবি, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।
ঘটনার পর থানার সামনে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আহত নেতাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা। অন্য সদস্যরা হলেন ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।
তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক