জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন কার্যক্রম আগামী রোববার, ২৫ জানুয়ারি থেকে আবারও পুরোদমে চালু হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এই সেবা পুনরায় শুরু হওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর।
তিনি জানান, ২৫ জানুয়ারি থেকে নাগরিকরা তাঁদের এনআইডিতে থাকা নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নামসহ যাবতীয় তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে পূর্বে জমা দেওয়া কিন্তু নিষ্পত্তি না হওয়া আবেদনগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করা হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গত ২৪ নভেম্বর বিকেল চারটা থেকে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ সময় নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও তালিকা চূড়ান্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
তবে পুরোপুরি বন্ধ না রেখে বিশেষ প্রয়োজন ও জরুরি সংশোধনের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে এনআইডি সংশোধন সেবা চালু রেখেছিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে আদালতের আদেশ, বিদেশগমন, চাকরি বা শিক্ষা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যেসব নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্যবহৃত হবে।
২৫ জানুয়ারি থেকে সংশোধন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় নতুন ভোটারদের এনআইডিতে থাকা ভুল তথ্য সংশোধন বা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংশোধন আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে। অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাচন অফিসে গিয়েও সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যবস্থায় গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও নতুন ভোটারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক