গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানায় বকেয়া দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে তাঁরা কাজ বন্ধ রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল এবং বার্ষিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিকেরা বুধবার দুপুর ১২টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে তাঁরা কারখানা ত্যাগ করে বাসায় চলে যান। তবে দাবি আদায় না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কারখানায় প্রবেশ করলেও কাজ শুরু না করে আবারও কর্মবিরতিতে যান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে নাইট বিল ও ছুটির টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। শ্রমিক সায়েদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিউটি করি, অথচ ঠিকমতো বিল দেওয়া হয় না। রোজার মাসেও রাত ১১টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়।” তাঁর দাবি, বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না।
অন্যদিকে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিন মাসের নাইট বিলের মধ্যে এক মাসের বিল বৃহস্পতিবার পরিশোধের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকেরা তা মেনে নিতে রাজি হননি। তিনি আরও দাবি করেন, শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং তাঁরা কোনো রকমে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
বিক্ষোভের সময় শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান জানান, শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে অবস্থান করছেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আসছেন এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটি কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত এবং সেখানে কয়েক শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। বকেয়া বিল সংক্রান্ত বিরোধ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে শ্রমিকদের দাবি।
শ্রম আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্য বিল ও ভাতা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া দাবি নিষ্পত্তিতে দেরি হলে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে শ্রম সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বর্তমানে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে কর্মপরিবেশ দ্রুত স্থিতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, গাজীপুরের এই পোশাক কারখানায় বকেয়া নাইট বিল ও বার্ষিক ছুটির টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কসমিক ডেস্ক