ইসরায়েলের তেল আবিবে রবিবার সকালে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছু পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার আশঙ্কায় সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। সতর্কবার্তার পরপরই তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরানের দিক থেকে আসা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। দেশটির অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আকাশপথে আসা হুমকি মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। বিস্ফোরণের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলেভ জানিয়েছে, ইরানের আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দেশজুড়ে যেকোনো সময় হামলাজনিত সতর্কসংকেত বাজতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কয়েকটি শহর থেকেও বিস্ফোরণের খবর এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। একইভাবে কাতারের রাজধানী দোহার বাসিন্দারাও শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, দোহায় অন্তত ১১টি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটিতে আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলা শুরুর পর থেকে আহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সীমিত আকারে কিছু ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়।
এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে এসব ঘটনার পর। বিস্ফোরণ ও সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে আরও তথ্য জানা যাবে।