মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আরও ছয় মাস ‘তীব্র লড়াই’ চালিয়ে যাওয়ার মতো রসদ, লোকবল এবং সামরিক সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই দাবি করেছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে ইরান আরও অন্তত ছয় মাস লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে যে গতিতে আমরা যুদ্ধ করছি, সেই গতি বজায় রেখে আরও ছয় মাস আমরা যুদ্ধ করতে পারব। সেই পরিমাণ রসদ, লোকবল ও সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।”
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাইনি দাবি করেন, গত সাত দিনে ইরান ও আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুই শতাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ইরানের নিয়মিত প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আইআরজিসি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়।
সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও সক্রিয় প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন একটি জটিল আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার দাবি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
তাদের মতে, সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন অনেক বিশ্লেষক।
সূত্র: এএফপি
কসমিক ডেস্ক