বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন: খেলাপি ঋণে ছাড় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন: খেলাপি ঋণে ছাড়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 21, 2026 ইং
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন: খেলাপি ঋণে ছাড় ছবির ক্যাপশন:
ad728

জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সচল রাখা এবং খেলাপি ঋণ আদায় সহজ করতে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মোট খেলাপি ঋণের মাত্র তিন শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে তাদের ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবে। এই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর এবং শুরুতে দুই বছর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে বিরতি বা গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও নগদ প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই বাস্তবতায় আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে তিন শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এর মধ্যে আবেদন দাখিলের সময় এক দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং ঋণ নিয়মিত কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে বাকি এক দশমিক পাঁচ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।

ঋণ নিয়মিত হওয়ার পর গ্রাহক দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবেন। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এ সময় ব্লকড হিসাবে জমা থাকা সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে কোনো অতিরিক্ত সুদ ছাড়াই কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে।

এ ছাড়া আগে পুনঃতফসিল করা ঋণ দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট প্রদান সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা নেওয়া যাবে। পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট পরিশোধ করতে হবে না।

তবে নির্ধারিত কিস্তি সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ আবারও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করেই এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিশেষ সুবিধা নিতে আগ্রহী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে মাদকবিরোধী অভিযানে ২১ বোতল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে মাদকবিরোধী অভিযানে ২১ বোতল