ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন এলাকার একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। সেখান থেকেই দুজনকে ফেডারেল আদালতে তোলা হয়, যেখানে ৯২ বছর বয়সী বিচারক আলভিন হেলারস্টেইনের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে দাখিল করা ২৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক টন কোকেন পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি সহিংস অপরাধ চক্রকে সহায়তা করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করেছে।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন নিকোলাস মাদুরো। গ্রেপ্তারের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল মাত্র। ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
কারাকাসের পক্ষের দাবি অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।
এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে কঠোর বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দেশটির তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দাবি করেন এবং ভেনেজুয়েলার ভেতরে থাকা মাদুরো ঘনিষ্ঠ নেতা বা কর্মকর্তারা নির্দেশ অমান্য করলে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন বলে জানানো হয়।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজের বক্তব্যে তুলনামূলক নরম সুর লক্ষ্য করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী তার সরকার। তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও কাঠামোর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘এজেন্ডা অব কো-অপারেশন’ গ্রহণের আহ্বান জানান।
দেলসি রদ্রিগুয়েজ আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রসহ আমেরিকা অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তার ভাষায়, দেশ ও জনগণ শান্তি ও সংলাপ চায়, সংঘাত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার ভেনেজুয়েলার জনগণের রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক