জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু হঠাৎ শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গাইনোকোলজিক্যাল জটিলতার কারণে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হলে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার স্বামী। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের আগে ডা. মিতু প্রায় শক অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন। পেটের ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংকটময় সময়ে রক্তদাতাদের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এবং সবার দোয়ায় প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে তার স্বামী পোস্টে উল্লেখ করেন।
তবে অস্ত্রোপচারের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পোস্ট-অপারেটিভ পর্যায়ে নতুন করে কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে তিনি ফুসফুসের সংক্রমণসহ একাধিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরে সেপটিসেমিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে। পাশাপাশি নিউট্রোফিলিয়া এবং ডি-ডাইমার, লিভার এনজাইম, সি-আর-পি ও ডব্লিউবিসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সূচক বেড়ে গেছে।
চিকিৎসকেরা জানান, নতুন করে উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ধরা পড়ায় তাকে ইনসুলিন দেওয়া হচ্ছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে আপাতত তার কেবিনে কোনো দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। গত দুই দিন তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আপাতত আইসিইউ প্রয়োজন হয়নি। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, সুস্থ হয়ে উঠতে আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।
ডা. মিতুর অসুস্থতার খবরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি-র নেতারা নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দলের ডায়াস্পোরা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ফিনল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক আহাদ সিকদার জানিয়েছেন, অপারেশনের আগে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। দলীয়ভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন পোস্ট দেখা যাচ্ছে। সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার জন্য দোয়া ও সমর্থন জানাচ্ছেন।
এদিকে ডা. মিতুর স্বামী দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন। কঠিন এই সময়ে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন তিনি। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, জরুরি অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক সংকট কাটলেও নতুন জটিলতা পরিস্থিতিকে এখনো স্পর্শকাতর করে রেখেছে। চিকিৎসকেরা আশাবাদী হলেও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য আরও কয়েকদিন নিবিড় চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক