অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করছেন, তাদের অনেকের অতীত ভূমিকা সরকারের অজানা নয়। তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে তারা কী ধরনের দালালির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা সরকার জানে। তাই নির্বাচন নিয়ে এমন বক্তব্যে সরকার বিস্মিত নয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর কথাও সাংবাদিকদের জানান।
প্রেসসচিব বলেন, মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত নিকার সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে লুট হওয়া সব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, যেকোনো উপায়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে এবং প্রত্যেকেই নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তবে নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়—নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, যারা নির্বাচন হবে না—এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কাছেই এই দাবির পেছনের যুক্তি জানতে চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচন না হওয়ার পক্ষে কোনো বাস্তব বা যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারেন, তাহলে এ ধরনের বক্তব্যকে গণতন্ত্রবিরোধী ও নির্বাচনবিরোধী অপপ্রচার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
উপ-প্রেসসচিব আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে প্রেসসচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ সেগুলো বিশ্বাস করছে না। জনগণ নির্বাচন বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো অনিশ্চয়তার সুযোগ নেই এবং নির্ধারিত সময়েই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
কসমিক ডেস্ক