জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভোট প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোট প্রদান শেষে শিক্ষার্থীদের ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে। গেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র এলাকায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
এছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই শুধুমাত্র ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় অবশ্যই পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদর্শন করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোটের দিন ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত না করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক গেট ও পোগোজ স্কুল গেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বসবাসরত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘোরাফেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নন, তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনার মাধ্যমে জকসু নির্বাচনকে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে।
জকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে বাড়তি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই নির্দেশনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক