২০২৬ সালের রমজান মাসে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে। হাইকোর্টের রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এর ফলে পুরো রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজ বন্ধ থাকবে।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্ধেক রমজান পর্যন্ত খোলা থাকবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। একজন শিক্ষক জানান, সারাদিন ক্লাস নেওয়া এবং রোজা রাখার মধ্যে সমন্বয় করা খুবই কষ্টসাধ্য। তিনি সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল সরকারকে নোটিশ পাঠিয়ে রমজান মাসে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার জন্য আইনি দাবি করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান, তাই স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নিয়ম প্রথা ও নীতির অংশ। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কিছু করা যাবে না। এছাড়া, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিশু-কিশোররা সারাদিন ক্লাস করলে রোজা রাখা কঠিন হয়ে যায় এবং ধর্মীয় আচার প্রভাবিত হয়।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ বছর পূর্বের তুলনায় ১২ দিন কম ছুটি রাখছে। ফলে প্রায় পুরো রমজান প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে। ২১ রমজান পর্যন্ত স্কুল খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন বেশি রয়েছে না; শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরাসহ কিছু বিশেষ দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের জন্য ৭২ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রমজান মাসের পুরো সময় কলেজ বন্ধ থাকবে। মাদরাসাগুলোতেও ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের ছুটি শুরু হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা রোজা রাখার সঙ্গে স্কুলের চাপ সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সামলাতে পারবে। একই সঙ্গে শহরগুলোর যানজটও কম হবে, যা রমজানের সময় নগরবাসীর জন্য সুবিধাজনক হবে। সরকার ও শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও ধর্মীয় চর্চাকে সমন্বয় করার দিকে গুরুত্ব দিয়েছে।
সংক্ষেপে, ২০২৬ সালের রমজান মাসে বাংলাদেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসা পুরো মাস বন্ধ থাকবে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্ধেক রমজান পর্যন্ত খোলা থাকবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, ধর্মীয় চর্চা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুবিধা পাবেন।