রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মাগরিবের নামাজের পর মিরপুর পীরের বাগ আল মোবারক মসজিদের সামনে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নামাজ শেষে এলাকায় অবস্থানরত বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও এলাকায় অবস্থান নেন। রাত পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে।
ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মাগরিবের নামাজের পর জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ এবং স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতা রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মিরপুর আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাসায় মহিলা জামায়াতের একটি সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই বাসায় প্রবেশ করে নারী নেত্রীদের বিকেল তিনটা থেকে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্যমতে, আটকে পড়া নারী নেত্রীদের উদ্ধারে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক জামায়াত নেতাকর্মী আহত হন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ সহায়তায় আটকে থাকা নারী নেত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি।
কসমিক ডেস্ক