পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজানসহ অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে টানা ৩৬ দিনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এই ছুটির ফলে যে পাঠদান ঘাটতি তৈরি হবে, তা পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, দিন হিসেবে ছুটি ৩৬ দিন হলেও কার্যদিবস বিবেচনায় ক্লাসরুম বন্ধ থাকবে ১৮ দিন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রমজান মাসের শুরু থেকেই ছুটি কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পূজা, পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতার দিবসের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটিও এ সময়ের মধ্যে পড়েছে।
আকস্মিক ছুটির ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা ও কলেজগুলো আগে থেকেই পুরো রমজান মাস ছুটি ঘোষণা করেছিল। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটির বৈষম্য থাকুক, তা সরকার চায়নি। সব স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির বিষয়টি সমান করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩৬ দিনের ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি ব্যাখ্যা দেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটি বাদ দিলে প্রকৃতপক্ষে ক্লাস বন্ধ থাকবে ১৮ দিন। এই সময়ের পাঠদান ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ক্লাস, পুনর্বিন্যাসকৃত একাডেমিক ক্যালেন্ডার বা বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এর আগে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এক আইনজীবীর রিটের পর হাইকোর্ট স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে সরকার সেই আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর চেম্বার আদালতে গেলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়। ফলে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে সরকারের আইনি বাধা ছিল না। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, ইবাদত-বন্দেগি ও পারিবারিক পরিবেশে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়া ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
ছুটির পর নির্ধারিত সময়েই পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত না ঘটে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তাই ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনার পাশাপাশি শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক