আদাবরে কারখানায় কিশোর গ্যাং হামলা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আদাবরে কারখানায় কিশোর গ্যাং হামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 22, 2026 ইং
আদাবরে কারখানায় কিশোর গ্যাং হামলা ছবির ক্যাপশন:

রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক লোক হামলার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মূল অভিযুক্ত রাসেল ওরফে কালা রাসেল, তার সহযোগী মারুফ এবং হাসান। পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তার চাচা আবির মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং সদস্যরা হামলা চালায়। হামলার সময় কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামের এক স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ধ্যার দিকে রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল কারখানায় হামলা চালায়। তাদের হাতে চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলায় কারখানার কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর জখম হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিক ও মালিকপক্ষ রাত সাড়ে ১০টার দিকে আদাবর থানার সামনে জড়ো হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সেনাবাহিনীও এলাকায় টহল জোরদার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বর এলাকার বাসায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান নেন।

আবির এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকরা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপি সংসদ সদস্যদের জন্য দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

বিএনপি সংসদ সদস্যদের জন্য দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু