ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সদস্য আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ কার্যত শূন্য থাকায় সংবিধানের বিশেষ ধারা অনুযায়ী সিইসিই নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, সাধারণত নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ পাঠ করান আগের সংসদের স্পিকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। ফলে স্পিকারের পদ শূন্য হয়ে যায়। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তিনি পদত্যাগ করেননি। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তার পক্ষে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তারা কেউই দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হওয়ায় বিকল্প বিধান কার্যকর হচ্ছে।
সংবিধানের ১৪৮(১) এবং ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, স্পিকার বা স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। তবে বর্তমান অবস্থায় প্রযোজ্য হচ্ছে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
এছাড়াও সংবিধানের তপশিল-৩ অনুযায়ী, যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্ব পালনে অক্ষম থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করানোর ক্ষমতা রাখেন।
নির্বাচন কমিশন বলছে, সংবিধানের এই ধারাগুলোর আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনায় সিইসিই দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করতে শপথ নিয়ে আর কোনো সাংবিধানিক জটিলতা থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক