ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত সব মৃত্যুদণ্ড বাতিল করায় দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমি অত্যন্ত সম্মান জানাই যে ইরানের নেতৃত্ব গতকাল নির্ধারিত সব ফাঁসি বাতিল করেছে। যার সংখ্যা ছিল ৮০০-এর বেশি। ধন্যবাদ!” তার এই মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে বলে তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। তার সেই হুঁশিয়ারির পরপরই ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড বাতিলের খবর সামনে আসে। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যের সরাসরি কোনো সম্পর্ক স্বীকার করেনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সব নীতিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিচ্ছেন। এ বিষয়ে গোপন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানায়, ইরান ইস্যুতে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার বলে স্বীকার করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন ও মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে তারা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে উভয় দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর।
কসমিক ডেস্ক