নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোমান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে চরজব্বার থানা-এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ওরফে দিদার মাঝিসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, চাঁদাবাজির বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোশাররফ হোসেন হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তার মাথায় একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং লোহার রডের আঘাতে ডান হাতের কবজির হাড় ভেঙে যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি।
আহত মোশাররফ দাবি করেন, হামলার পর তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে এবং শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মামলার বাদী আব্দুল জব্বার বলেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত দিদারুল আলম হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভুক্তভোগীকে স্থানীয় কিছু কৃষক মারধর করেছেন এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
এ বিষয়ে চরজব্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
কসমিক ডেস্ক