পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে একটি বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যুর একেবারে প্রথম মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। নক্ষত্রটির বিস্ফোরণের সময় তৈরি হওয়া ক্ষণস্থায়ী ‘শক ব্রেকআউট’ বা অভিঘাত তরঙ্গের প্রথম আলো শনাক্ত করার মাধ্যমে মহাজাগতিক এই বিরল ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
চীনের আইনস্টাইন প্রোব মহাকাশ টেলিস্কোপ গত মার্চে প্রথম ওই উৎস থেকে অস্বাভাবিক এক্স-রে ঝলক শনাক্ত করে। এরপর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ঘটনাটির দিকে নজর দেয়। অনুসরণমূলক পর্যবেক্ষণে যুক্ত হয় চিলির ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরিসহ একাধিক শক্তিশালী টেলিস্কোপ।
বিজ্ঞানীদের মতে, গত দুই দশকে কোনো নক্ষত্রের বিস্ফোরণের শক ওয়েভ সরাসরি পর্যবেক্ষণের এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। ফলে এই পর্যবেক্ষণ নক্ষত্রের মৃত্যুর প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে গবেষণার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন শনাক্ত হওয়া বিস্ফোরণটি ‘টাইপ আইসি ব্রড-লাইনড’ সুপারনোভা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের বিস্ফোরণে প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি বেগে পদার্থের জেট বের হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে গামা-রে বিস্ফোরণের সঙ্গেও এর সম্পর্ক দেখা যায়। তবে এবার কোনো গামা-রে বিস্ফোরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নক্ষত্রের বাইরের স্তর বা চারপাশের পদার্থের কারণে সম্ভাব্য জেট আটকে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত নক্ষত্রটির ভর সূর্যের প্রায় ২০ গুণ ছিল এবং এটি উলফ-রেয়েট শ্রেণির নক্ষত্র। মৃত্যুর আগে নক্ষত্রটি পর্যায়ক্রমে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম মহাশূন্যে ছুড়ে দিয়েছিল। ফলে তার চারপাশে বিভিন্ন স্তরের পদার্থ তৈরি হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা বিস্ফোরণের এক্স-রে শক ব্রেকআউট, সুপারনোভা এবং আগে নক্ষত্র থেকে বেরিয়ে আসা পদার্থের সঙ্গে বিস্ফোরণের মিথস্ক্রিয়া—এই তিনটি পর্যায় পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মতে, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম হারানো একটি নক্ষত্রের বিস্ফোরণের আগে তার চারপাশের পরিবেশ এভাবে বিশ্লেষণ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
বিজ্ঞানীরা এখন জানতে চাইছেন, একই ধরনের অন্যান্য নক্ষত্রের মৃত্যুর আগেও কি এমন পদার্থ নির্গমন ও বিস্ফোরণ ঘটে। ভবিষ্যতে আরও শক ব্রেকআউট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আশা করছেন তারা।
কসমিক ডেস্ক