নারী প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়, প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নারী প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়, প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
নারী প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়, প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন নারী প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জামায়াত–এনসিপি জোটেও সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আসন অনুপাতে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পেতে পারে প্রায় ৩৫টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১১টি এবং জোটগতভাবে মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, নারী এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলটি কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেবে। এর মধ্যে রয়েছে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্বশীলতা। যেসব অঞ্চলে জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য নেই, সেসব এলাকা থেকে নারী প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি আগে যারা সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থেকে ১১ জন নারীকে বাছাই করার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দলের অভ্যন্তরের পাশাপাশি পেশাজীবী নারীদেরও বিবেচনায় আনার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। সম্প্রতি ঘোষিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে মোট ৮৯ সদস্যের মধ্যে ২১ জন নারী রয়েছেন। মূলত এই তালিকা থেকেই অধিকাংশ নারী প্রার্থী মনোনীত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াতের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন—কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।

এ ছাড়া আরও যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন—সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার এবং আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন।

ডা. আমিনা বেগম রহমান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর স্ত্রী। তিনি এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে জামায়াতের নায়েবে আমিরের স্ত্রী ডা. হাবিবা চৌধুরীও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

অন্যদিকে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াত–এনসিপি জোট আরও দুটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই দুটি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমীন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু।

এ বিষয়ে জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানিয়েছেন, দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেনি। তিনি বলেন, অতীতে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় আনা হবে। বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদে ও সংসদের বাইরে বিশেষ করে নারী সমাজের জন্য যারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে জামায়াত–এনসিপি জোটে যে আলোচনা চলছে, তা দেশের রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ছে, এখন ৬০ শতাংশ

শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ছে, এখন ৬০ শতাংশ