জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সোমবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শেষে এ দিন নির্ধারণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তৃতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শুরু হয়। তিনি এদিন আদালতের সামনে অবশিষ্ট ১৪ আসামির ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জব্দ করা বিভিন্ন ভিডিওর তথ্য উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড ও জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র কীভাবে এবং কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন। তবে জবানবন্দি সম্পন্ন না হওয়ায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অডিও-ভিডিও উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার। এদিন সকালে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
এ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন আইনজীবী আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার তদন্ত কর্মকর্তা পলাতক হাসিবুর রশীদসহ ১৬ আসামির দায় উপস্থাপন করেন। ১৮ ডিসেম্বর এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিনি মামলার সর্বশেষ বা ২৫ নম্বর সাক্ষী হলেও প্রসিকিউশন মোট ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে ১০ ডিসেম্বর বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এবং তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
৯ ডিসেম্বর তারকা সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জবানবন্দিতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করেন এবং সমন্বয়কদের আটক রাখার একটি নতুন সেইফ হাউজের তথ্য দেন। পাশাপাশি আন্দোলনের সময় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন এবং তার আগে ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কসমিক ডেস্ক